Honours 1st Year History and Culture of Bangladesh and Bengalees Suggestion 2026 PDF - বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি চূড়ান্ত সাজেশনস ও উত্তরপত্র পিডিএফ

Admin

অনার্স ১ম বর্ষের বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি (২১১০০৩) চূড়ান্ত সাজেশনস ও উত্তর


Honours 1st Year History and Culture of Bangladesh and Bengalees Suggestion 2026 PDF - বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি চূড়ান্ত সাজেশনস ও উত্তরপত্র পিডিএফ


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষ বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজ আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি (প্রাচীনকাল থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত) বিষয়টির চূড়ান্ত সাজেশনস নিয়ে। বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস বিষয়টি পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিভাগ: বাংলা বিভাগ

বিষয়: বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি (প্রাচীনকাল থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত)

বিষয় কোড: ২১১০০৩

সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী রচিত


বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস সাজেশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ


  1. (ক) বাংলা নামের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা কর।
    (খ) বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান উল্লেখ কর।
  2. (ক) প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস রচনার উপকরণসমূহের বিস্তারিত পরিচয় দাও।
    (খ) বাংলাকে কেন জনপদের দেশ বলা হয়?
  3. (ক) বাঙালি জাতির নৃ-তাত্ত্বিক গঠন প্রকৃতি আলোচনা কর।
    (খ) বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কের রাজত্বকাল পর্যালোচনা কর। তিনি কী শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন?
  4. (ক) বাংলায় পাল শাসনের ইতিহাস আলোচনা কর।
    (খ) পালবংশের গোপালের গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
  5. (ক) বাংলায় পাল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে ধর্মপালের ভূমিকা আলোচনা কর।
    (খ) পাল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন? তাঁর রাজ্য বিস্তার ও অন্যান্য সাফল্য আলোচনা কর।
  6. (ক) বাংলায় সেন শাসনের অবসান ও মুসলমানদের আগমনের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা কর।
    (খ) বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের কারণ কী ছিল?
  7. (ক) সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকাল পর্যালোচনা কর।
    (খ) যুগ-সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের অবদান তুলে ধর।
  8. (ক) মোগল সম্রাট বাবরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
    (খ) ভারতের শাসক হিসেবে বাবরের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।
  9. (ক) সম্রাট আকবরের ‘সুলহ-ই-কুল’ কী ছিল?
    (খ) সম্রাট আকবরের দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তনের কারণ কী ছিল?
  10. (ক) পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর।
    (খ) দেওয়ানি লাভ কী? বাংলায় দেওয়ানি লাভের ফলাফল আলোচনা কর।
  11. (ক) স্থায়ী বন্দোবস্তের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর।
  12. (ক) উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের কারণসমূহ আলোচনা কর।
    (খ) রাজা রামমোহন রায়ের অবদান মূল্যায়ন কর।
  13. (ক) সিপাহী বিদ্রোহের কারণ বর্ণনা কর।
    (খ) সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল কী ছিল?
  14. (ক) বঙ্গভঙ্গ কী?
    (খ) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও ঘটনা প্রবাহের বিবরণ দাও।
  15. (ক) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব আলোচনা কর।
  16. (ক) জাতীয়তাবাদ কী?
    (খ) বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশধারা আলোচনা কর।
  17. (ক) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও ফলাফল আলোচনা কর।
  18. (ক) স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদান আলোচনা কর।
  19. (ক) ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের কারণ লেখ।
    (খ) বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের (১৯৯১–১৯৯৬) সাফল্য আলোচনা কর।
  20. (ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি (১৯৯৭) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।
  21. (ক) সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ?
    (খ) ‘পাহাড়পুর বিহার বাঙালির সংস্কৃতির উচ্চমান প্রমাণ করে’—আলোচনা কর।
  22. (ক) লোকসংস্কৃতি কী?
    (খ) বাঙালির জীবনে লোকসংস্কৃতির ভূমিকা আলোচনা কর।
  23. (ক) কৃষিভিত্তিক বাঙালি সমাজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
    (খ) বাংলার লোকায়ত দেব-দেবীর পরিচয় দাও।
  24. (ক) বাংলার লোকসংস্কৃতির পরিচয় দাও।
    (খ) বাংলার মুসলিম স্থাপত্যকীর্তি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।
  25. (ক) বাংলার ভাস্কর্য বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখ।
    (খ) ঊনবিংশ শতকের বাংলার জাগরণের সূত্রপাত আলোচনা কর।
  26. (ক) বাঙালি মুসলমানদের জাগরণে মুসলিম সাহিত্য সমাজের ভূমিকা লেখ।
  27. (ক) কৃষিভিত্তিক বাঙালি সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সংক্ষেপে বিবরণ দাও।
    (খ) বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও পোশাকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
  28. (ক) বাঙালি সংস্কৃতিতে ধর্মের প্রভাব আলোচনা কর।
    (খ) বাঙালির লোকায়ত বিশ্বাসের পরিচয় দাও।


বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সাজেশন উত্তরপত্র


০১। (ক) বাংলা নামের উৎপত্তি ও বিবর্তন

‘বাংলা’, ‘বাঙালি’ এবং ‘বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর উৎপত্তি ও বিবর্তন মূলত বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস আলোচনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত এই অঞ্চলের নাম এবং এর বিস্তৃতি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রূপান্তরিত হয়েছে।

‘বাংলা’ শব্দের ভাষাগত ও ঐতিহাসিক উৎপত্তি

  • ঐতরেয় আরণ্যক ও ঋগ্বেদ: ‘বঙ্গ’ শব্দটির প্রথম প্রাচীন উল্লেখ পাওয়া যায় বৈদিক সাহিত্য ‘ঐতরেয় আরণ্যক’-এ। সেখানে ‘বঙ্গ’ বলতে এক নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলকে বোঝানো হতো।
  • আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’: মোগল সম্রাট আকবরের রাজসভার প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে ‘বাংলা’ শব্দের একটি কৌতূহলোদ্দীপক উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, ‘বঙ্গ’ (Bong) শব্দের সঙ্গে ‘আল’ (Aal - অর্থাৎ জমির আইল বা বাঁধ) যুক্ত হয়ে ‘বঙ্গাল’ এবং তা থেকে পরবর্তীতে ‘বাংলা’ শব্দের সৃষ্টি হয়েছে।
  • দ্রাবিড়ীয় প্রভাব: অনেক ভাষাবিদ মনে করেন, দ্রাবিড় ভাষার ‘বোং’ (যার অর্থ সূর্যদেবতা বা জলাভূমি) শব্দ থেকে ‘বঙ্গ’ শব্দের উৎপত্তি হতে পারে।

ঐতিহাসিক যুগে নামের বিবর্তন

  • প্রাচীন যুগ: প্রাচীনকালে বাংলা কোনো একক বা ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র ছিল না। এটি বঙ্গ, পুণ্ড্র, গৌড়, সমতট, হরিকেল, বরেন্দ্র এবং রাঢ়-এর মতো স্বাধীন জনপদ বা অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
  • সুলতানি যুগ (শাহী বাংলা): ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ পুরো অঞ্চলকে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ‘সুলতান-ই-বাংলা’ বা ‘শাহ-ই-বাঙালি’ উপাধি গ্রহণ করেন।
  • মোগল ও নবাবী যুগ: মোগল আমলে এই অঞ্চলকে ‘সূবা-ই-বাঙ্গালা’ বলা হতো।
  • ব্রিটিশ যুগ: British ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে পুরো অঞ্চলকে ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি’ (Bengal Presidency) নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব অংশ ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নাম ধারণ করে।
  • আধুনিক যুগ (বাংলাদেশ): ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক জনসভায় ঘোষণা করেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ আত্মপ্রকাশ করে।


০১। (খ) বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন এবং প্রাকৃতিক সীমা বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন এবং প্রাকৃতিক সীমা এর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত অবস্থান

  • অক্ষাংশ: ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে।
  • দ্রাঘিমাংশ: ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে।
  • কর্কটক্রান্তি রেখা: ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বা কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) বাংলাদেশের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।

আয়তন ও সীমারেখা

  • আয়তন: বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
  • স্থলসীমানা: বাংলাদেশের তিন দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য অবস্থিত।
  • আন্তর্জাতিক সীমানা: দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মিয়ানমারের সাথে সংক্ষিপ্ত সীমানা রয়েছে।
  • দক্ষিণ সীমা: দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি ও অঞ্চলসমূহ

  • টার্শিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ: দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের (পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার) পাহাড়সমূহ।
  • প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ: দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের উঁচুমূলের লাল মাটির অঞ্চল (বরেন্দ্রভূমি, ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় এবং লালমাই পাহাড়)।
  • সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা দ্বারা গঠিত উর্বর পলিমাটির বিশাল সমভূমি।


০২। (ক) প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস রচনার উপকরণসমূহ

যেহেতু বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস রচনার জন্য সরাসরি কোনো একক ধারাবাহিক প্রাচীন গ্রন্থ নেই, তাই ঐতিহাসিকগণ প্রত্নতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক এবং বৈদেশিক পর্যটকদের বিবরণ সমন্বিত করে প্রাচীন ইতিহাস পুনর্নির্মাণ করেছেন।

১. প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণ (Archaeological Sources)

  • অভিলেখ বা শিলালিপি: তাম্রশাসন ও শিলালিপি (যেমন—মহাস্তানগড় ব্রাহ্মী লিপি) থেকে রাজাদের বংশলতিকা ও ভূমিদান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।
  • মুদ্রা: প্রাপ্ত গুপ্ত, খড়্গ ও হরিকেল মুদ্রা তৎকালীন অর্থনৈতিক অবস্থা নির্দেশ করে।
  • স্থাপত্য ও ভাস্কর্য: পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ময়নামতি, মহাস্থানগড় থেকে প্রাচীন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় জীবনের চিত্র ফুটে ওঠে।
  • মৃৎশিল্প ও ধাতব সামগ্রী: উয়ারী-বটেশ্বর থেকে প্রাপ্ত রৌপ্যমুদ্রা ও মৃৎপাত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রমাণ দেয়।

২. সাহিত্যিক উপকরণ (Literary Sources)

  • কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’: প্রাচীন বাংলার বস্ত্রশিল্প ও বাণিজ্যের বিবরণ দেয়।
  • ঐতিহাসিক কাব্য: সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিতম্’ কাব্য থেকে পাল রাজা রামপাল ও কৈবর্ত বিদ্রোহের বিবরণ পাওয়া যায়।
  • সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্য: জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম’ এবং ‘চর্যাপদ’ থেকে তৎকালীন দৈনন্দিন জীবন ও প্রথার পরিচয় মেলে।

৩. বৈদেশিক পর্যটক ও লেখকদের বিবরণ (Foreign Accounts)

  • গ্রিক ও রোমান লেখক: মেগাস্থেনিস ও প্লিনির বিবরণ থেকে ‘গঙ্গারিডাই’ রাজ্যের কথা জানা যায়।
  • চীনা পরিব্রাজক: ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং-এর ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার জানা যায়।
  • আরব ও পারসিক লেখক: ইবনে বতুতা ও সুলাইমানের বিবরণ থেকে সামুদ্রিক বাণিজ্যের পরিচয় মেলে।


০২। (খ) বাংলাকে কেন ‘জনপদের দেশ’ বলা হয়?

প্রাচীনকালে ‘বাংলা’ বলতে কোনো একক বা অখণ্ড রাষ্ট্রকে বোঝাত না। এটি ছোট ছোট অনেকগুলো স্বাধীন ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত ছিল, যেগুলোকে ‘জনপদ’ বলা হতো। বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই বিভাজন স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।

প্রধান প্রধান জনপদসমূহের পরিচয়

  • গৌড়: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এলাকা নিয়ে গঠিত। রাজা শশাঙ্কের রাজধানী ছিল।
  • বঙ্গ: বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী এলাকা।
  • পুণ্ড্র: উত্তরবঙ্গের (বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী) বিস্তৃত এলাকা। রাজধানী ছিল ‘পুণ্ড্রনগর’ (মহাস্থানগড়)।
  • রাঢ়: ভাগীরথী নদীর পশ্চিমে বর্ধমান, হুগলি, বীরভূম এলাকা।
  • সমতট: মেঘনা নদীর পূর্ব তীরের সমতল অঞ্চল (কুমিল্লা ও নোখালী)।
  • হরিকেল: চট্টগ্রাম, সিলেট ও পার্বত্য এলাকা।
  • বরেন্দ্র: গঙ্গা ও করতোয়া নদীর মধ্যবর্তী উত্তরবঙ্গের সমভূমি।


০৩। (ক) বাঙালি জাতির নৃ-তাত্ত্বিক গঠন প্রকৃতি

বাঙালি কোনো একক আদি মানবগোষ্ঠী থেকে তৈরি হয়নি। এটি বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক বা রেসিয়াল গ্রুপের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা একটি সংকর বা মিশ্র জাতি।

প্রধান সংমিশ্রিত নৃ-তাত্ত্বিক উপাদানসমূহ

  • অস্ট্রিক: বাঙালি জাতির মূল নৃ-তাত্ত্বিক ভিত্তি। বাঙালিদের শারীরিক গঠন ও কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থায় এদের প্রভাব স্পষ্ট।
  • দ্রাবিড়: দ্রাবিড়দের নগর সভ্যতা ও উন্নত সংস্কৃতির প্রভাব বাঙালি দেহে ও ঐতিহ্যে বিদ্যমান।
  • আর্য: খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে আর্যদের আগমনের ফলে ভাষা, ধর্ম ও রক্তে নতুন সংমিশ্রণ ঘটে।
  • মঙ্গলীয়: বাংলার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে বাস করা অধিবাসীদের মাধ্যমে এদের মিশ্রণ ঘটে।
  • অন্যান্য: সেমিটিক, আলপাইন ও তুর্কি-পারসিক জনগোষ্ঠীর আগমনে রক্তসংমিশ্রণ আরও জটিল রূপ নেয়।


০৩। (খ) বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কের রাজত্বকাল ও শাসক হিসেবে তাঁর মূল্যায়ন

প্রাচীন বাংলাদেশ এবং বাঙালির ইতিহাস-এ রাজা শশাঙ্ক (শাসনকাল: আনুমানিক ৬০৬–৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ) স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

শ্রেষ্ঠত্বের সপক্ষে যুক্তি

  • প্রথম সার্বভৌম অধিপতি: তিনিই প্রথম সার্বভৌম বাঙালি রাজা, যিনি ‘রাজাধিরাজ’ ও ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন।
  • সামরিক দক্ষতা: উত্তর ভারতের হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মণের সম্মিলিত আক্রমণ প্রতিহত করে দীর্ঘকাল স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখেন।
  • অর্থনৈতিক সাফল্য: নিজস্ব স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা প্রবর্তন করেছিলেন।

সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক

চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর মতে শশাঙ্ক বৌদ্ধধর্ম নিপীড়ক ছিলেন, তবে আধুনিক ইতিহাসবিদগণ একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচারিত তথ্য বলে মনে করেন। রাজ্য গঠন ও স্বাধীনতা রক্ষার নিরিখে শশাঙ্ককে প্রাচীন বাংলার প্রথম মহান শাসক বলা যায়।


বাকি প্রশ্নের উত্তরসহ সম্পূর্ণ পিডিএফটি পেতে নিচের দেওয়া ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন।


Download Here



#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!