তাজিমী সিজদা বা সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সিজদা কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকে - What is Tajimi Sijda or Sijda for showing respect?

0

তাজিমী সিজদা বা সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সিজদা কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকে - What is Tajimi Sijda or Sijda for showing respect?

তাজিমী সিজদা বা সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সিজদা কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকেতাজিমী সিজদা বা সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সিজদা কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকে

(toc)

তাজিমি সিজদা সম্পর্কে বিস্তারিতঃ-

যারা এ কথা বলে বিভ্রান্তী ছড়াতে চেষ্টা করছে যে, “চতুর্দশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ আ‘লা হযরত ইমামে আহ্লে সুন্নাত শাহ্ আহমাদ রেযা খান বেরেলভি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা‘যিমি সিজ্দাকে জায়িয বলেছেন”- তারা মূলতঃ নিজেদের এ শরিয়ত গর্হিত কাজকে বৈধ করার জন্য তাঁর প্রতি জঘন্য অপবাদ আরোপ করছে মাত্র। এদের ফিতনা থেকে দূরে থাকতে হবে। আ‘লা হযরত কিবলা তা‘যিমি সিজদা হারাম প্রমাণ করার জন্য স্বতন্ত্র একটি কিতাব রচনা করেছেন “আয-যুবদাতুয্ যাকিয়্যাহ্ ফী হুরমাতি সিজদাতিত্ তাহিয়্যাহ্” নামে। যাতে তিনি-

পবিত্র কুরআনে কি বলেছে?

  • পবিত্র কুরআন কারিমের সূরা আলে ইমরান-এর ৮০নং আয়াতে কারিমা উল্লেখপূর্বক এর ব্যাখ্যায় মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ, ইকলিল ফী ইসতিন্বাতিত্ তানযীল, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে বায়যাভী, তাফসীরে মাদারিক, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে আবুস্ সাউদ, তাফসীরে কবীর, জুমালসহ আরো অনেক তাফসির গ্রন্থের আলোকে তা‘যিমি সিজদাকে হারাম প্রমাণ করেছেন।

  • ১৫০টি ফিক্বহ বা ফাতাওয়ার দলিল দ্বারা তা‘যিমি সিজদাকে হারাম প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি যে সকল রিওয়ায়াতসমূহের অপব্যাখ্যা করে ফিতনাবাজরা তা‘যিমি সিজদাকে বৈধতা দিতে চায় এগুলোর খন্ডন করে তাদের দলিলসমূহের অসাড়তাও প্রমাণ করেছেন।

হাদীস কি বলে?

  • তাজিমী সিজদা হারাম প্রমাণে ৪০টি হাদিসের দলীল পেশ করেছেন, যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য যে, তা‘যিমি সিজদা হারাম হওয়ার ব্যাপারে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, এগুলো ‘মুতাওয়াতির’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুতাওয়াতির হাদিস হলো- “যে হাদিসের প্রত্যেক পর্যায়ে রাবী বা বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত বেশি যে, তাঁদের প্রত্যেকে মিথ্যার উপর ঐক্যমত হওয়া অসম্ভব।”

উসূলুল্ হাদিসের কিতাবসমূহে এসেছে, এ সকল হাদিসের বর্ণনাকারীগণ প্রতিস্তরে কমপক্ষে ১০ জন হতে হবে। অথচ আ‘লা হযরত কিবলা তা‘যিমি সিজদা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ৪০টি সনদে হাদিস বর্ণনা করেছেন। উসূলুল্ হাদিসের কিতাবসমূহে তা-ও এসেছে যে, এ বর্ণনা শব্দগত (لفظى) হোক বা অর্থগত (معنوي) হোক সবক্ষেত্রেই এর উপর আমল করা ওয়াজিব। মুতাওয়াতির হাদিস অস্বীকার করা কুফরি।

সুতরাং তা‘যিমি সিজদা যেহেতু মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদিস দ্বারা হারাম প্রমাণিত, তাই এর বিপরীতে যদি কোন দূর্বল বর্ণনা থেকেও থাকে তা নিঃসন্দেহে আমলযোগ্য নয়। অনেকে ইমাম আলা হযরত রহঃ এর নিম্নোক্ত আশয়ার নিয়েও তাজিমী সিজদা পক্ষাবলম্বন করে, খেয়াল করুনঃ

হাসসানুল্ হিন্দ আ‘লা হযরত ইমাম আহমাদ রেযা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘হাদায়িক্বে বখ্শিশ’-এর নিম্নোক্ত দুটি লাইন-

اغنيا پلتے ہیں در سے وہ ہے بڑا تیرا
 اصفیا چلتے ہیں سر سے وہ ہے رستا تیرا

এর গদ্যানুবাদ হলো- “(ইয়া রাসূলাল্লাহ্!) আপনার বারগাহের শান এমনই যে, সেখানে (শুধু দরীদ্র নয়) ধনীরাও এসে পড়ে থাকে। আপনার (চলার) রাস্তা এমনই (শান-শওকতপূর্ণ) যে, সূফিগণ সেথায় মাথা নত করে চলে।”

প্রেমিকগণের জন্য তো এটাই আদব। এ লাইন দু’টির ব্যাখ্যায় আল্লামা ফায়য আহমাদ ওয়ায়েসি রেজভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আল-হাক্বাইক্ব ফীল্ হাদাইক্ব গ্রন্থে বলেন, ‘সর্বোচ্চ তা‘যীম বা সম্মানের সাথে মদীনার রাস্তা অতিক্রম করার কথাই বলা হয়েছে।’

اصفیا چلتے ہیں سر سے -

এর শাব্দিক অর্থ হলো, সূফিগণ মাথায় চলেন। মাথায় তো আর পথ চলা যায় না; কাজেই এর অর্থ হবে সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে চলা। এ জন্যই ইমাম মালিক সাড়া জীবন মদিনা মুনাওয়্যারায় থাকলেও কখনো জুতা পরিধান করেন নি, যেন সরকারে দু‘আলমের নুরি কদম যেখানে স্পর্শ হয়েছে, সেখানে বেয়াদবি হয়ে না যায়।

ইমাম আ‘লা হযরত কিবলার বিখ্যাত কিতাব ‘ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া’-এর ১৫তম খন্ডের ৩০১-৩০২ নং পৃষ্ঠায় রয়েছে, তাঁকে রামপুর থেকে জনাব মা‘শুক আলি সাহেব নামে জনৈক ব্যক্তি সাতটি পংক্তিবিশিষ্ট একটি কবিতা পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন যে, কবিতার এ লাইনগুলো মিলাদের ক্বাসিদা হিসেবে অনেকে পড়ে থাকেন; এগুলো সম্পর্কে উলামায়ে দ্বীনের বক্তব্য কী? এর মধ্যে ৪নং পংক্তিটি হলো-

جو پہنچا مرتبہ جبروت میں مسجود عالی کا 
 تو اس جسم مطہر کو وہ نوراللہ کہتے ہیں

‘যিনি সুউচ্চ মাসজুদ (যাকে সিজদাহ্ করা হয়)-এর মর্যাদা জাবারুতে স্তরে উন্নীত হয়েছেন, ঐ পবিত্র শরীরকে নূরুল্লাহ্ বলা হয়।’

এর জবাবে আ‘লা হযরত কিবলা বলেন-

اور چہارم میں مسجود کا لفظ مناسب نہیں۔ ہاں شاہ عبدالعزیز صاحب تفسیر عزیزی میں فرماتے ہیں: ہزاران ہزار عاشق برآستانہ او (صلی اللہ تعالٰی علیہ وسلم) سجدات می کنند وایں مرتبہ ہیچکس را ندادہ اند۔ مگر بطفیل ایں محبوب (صلی اللہ تعالٰی علیہ وسلم) برخے ازاولیائے امت راشمہ محبوبیت آں نصیب شدہ مسجود خلائق ومحبوب دلہا گشتہ اند مثل حضرت غوث الاعظم وسلطان المشائخ نظام الدین اولیاء رضی اللہ تعالٰی عنہما (ملخصاً) واللہ تعالٰی اعلم۔

-“চার নং পংক্তিতে مسجود (মাসজূদ তথা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদার পাত্র) শব্দটি ঠিক নয়। তবে শাহ্ আব্দুল আযিয মুহাদ্দিসে দেহলভি রাহিমাহুল্লাহ্ ‘তাফসীরে আযীযী’তে ফরমান- ‘লাখো আশেক্ব হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বরকতময় আস্তানায় সিজদা করে থাকেন এবং এই মর্যাদা অন্য যাকেই প্রদান করা হয়েছে, তা ঐ মাহবুব নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই সদকা। উম্মতের ওলিগণের মধ্য থেকে যার-ই এ মাহবুবিয়াতের মর্যাদা মিলেছে, তিনি সৃষ্টির মাসজূদ (সিজদার পাত্র) এবং মাহবুব বা প্রেমাস্পদ হয়েছেন। যেমন- হযরত গাউছুল আ‘যম, সুলতানুল মাশায়েখ নিজামুদ্দিন আউলিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা’।”

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কবিতার লাইনে নবীজিকে ‘মাসজূদ’ বলা হয়েছে। আর আ‘লা হযরত কিবলার ফাতওয়া হলো যে, নবী পাকের ক্ষেত্রেই এ শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এখানে তিনি তা‘যিমি সিজদাহ্ জায়িয ফাতওয়া দিলেন কোথায়? বরং বলেছেন- مسجود کا لفظ مناسب نہیں (মাসজূদ তথা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদার পাত্র) শব্দটি ঠিক নয়। অর্থাৎ কবিতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে, আর তিনি সে অনুযায়ী জবাব দিয়েছেন।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !