স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য, Responsibilities & Duties of Wife

0

স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য, Responsibilities and Duties of Wife

ইসলামী শরীয়াতে স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য, Responsibilities and Duties of Wife in Islamic Shariah,

ইসলামী শরীয়াতে স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য, Responsibilities and Duties of Wife in Islamic Shariah

(toc)

ইসলামী শরীয়াতে স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য

ইসলামী শরীয়াত স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে স্বামীর ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে তার সংক্ষিপ্ত চিত্র ওপরে আলোচনা হয়েছে। এখন স্বামীর অধিকার সম্পর্কে ইসলামী শরীয়াতে স্ত্রীকে যে মূল্যবান উপদেশ দান করেছে, তারও একটা বিবরণ তুলে ধরা প্রয়োজন। যাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যাবলী সামনে রেখে বিচার করা যায়, ইসলাম যৌন পবিত্রতা সংরক্ষণের জন্য কত বড় প্রয়াস-প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং উভয়ের পারস্পরিক সম্প্রীতিকে কি পরিমাণ মজবুত ও প্রাণময় করে তুলেছে।

আইনের পরিপূর্ণতা

যে সমস্ত আইন শুধুমাত্র এক পক্ষের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে অপর পক্ষকে সমস্ত দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়, তা যতই সুন্দর ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী হোক না কেনো, তাকে পরিপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্তই বলা যাবে না পরিপূর্ণ আইন কেবলমাত্র তা-ই হতে পারে, যা প্রত্যেকের ওপর অপরের দায়-দায়িত্বকে অনিবার্য করে তোলে, যদিও তার স্বরূপ ভিন্ন ভিন্ন হোক না কেনো।

প্রকৃত পক্ষে নারী সৃষ্টিগত ভাবে, প্রকৃতিগত ভাবে ভারসাম্যহীন ও দৈহিক গঠনে দুর্বল। আর এ কারণেই স্ত্রী দয়া-মায়া ও করুণার পাত্রী। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তার ওপর কোনো রকম দায়িত্বই অর্পণ করা উচিত নয়, কেননা তা হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দাম্পত্য জীবন বড় অপূর্ণ, বিস্বাদময় হয়ে উঠবে।


সংসারের কর্তৃত্ব

ইসলামী শরীয়ত নারীর এ সমুদয় দুর্বলতার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রেখেছে, যা একান্ত ভাবেই তাকে বিধাতার পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আর এ কারণেই দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব পুরুষের ওপর সোপর্দ হয়েছে। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর সামগ্রিক জীবনের প্রধান কর্মকর্তা পুরুষকেই নির্বাচিত করা হয়েছে, যাতে করে সংসারের কঠিন সমস্যাগুলো পুরুষ তার আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি-সাহস দ্বারা সমাধান করা যায়।

আল্লাহ্ তাআলা পুরুষদের কর্তৃত্বের কথা ঘোষণা করে বলেছেন

 الرجال قوامون على النساء بما فضل الله بعضهم على بعض وبما انفقوا من أموا لهم 

“পুরুষরা নারীর উপর কর্তৃত্বের অধিকারী। কারণ আল্লাহ্ তাদের একজনকে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে।” (-সূরা আন নিসা : ৩৪)


মোদ্দাকথা এ যে, পুরুষকে যেহেতু জ্ঞান ও কর্মে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে, যেহেতু সে নারীর জন্য স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং মোহর, ভরণ-পোষণ প্রভৃতি উপায়ে সহায়তা করে, সেহেতু পুরুষকে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক জীবনের কর্তা বানানো হয়ছে।


পুরুষের কর্তৃত্ব দানের কারণ

প্রতিটি জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রই একথা অস্বীকার করতে পারে না যে, পুরুষ তার আল্লাহ প্রদত্ত যোগ্যতার বলেই অনেক ক্ষেত্রে নারীর চেয়ে শক্তিশালী। স্বভাবগতভাবে নারীর জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন সে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়ে। অন্যের সাহায্য-সহায়তার মুখাপেক্ষী থাকে। এখানে গর্ভাবস্থা, শিশুকে দুগ্ধদান ও প্রতিপালন, হায়েয ও নিফাসের সময়ের কথা বলা হচ্ছে। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেস দেহলভী রহমাতুল্লাহ আলায়হি পুরুষের কর্তৃত্ব সম্পর্কে লিখেন।

“পুরুষকে তার স্ত্রীর কর্তা বানানো অপরিহার্য এবং স্বভাবের দাবী হচ্ছে নারীর ওপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ। কারণ পুরুষ জ্ঞান-বুদ্ধিতে পরিপূর্ণ, রাজনীতিতে সুদক্ষ, পৃষ্ঠপোষকতায় সুদৃঢ় এবং লজ্জা-শরম নিবারণে সক্ষম। তাছাড়া, পুরুষেরা নারীর অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে বলেও নারীর ওপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত।"(- হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা)।


আধুনিক জ্ঞান গবেষণায় পুরুষের মর্যাদা

আধুনিক জ্ঞান গবেষণাও একথা সমর্থন করছে যে, পুরুষের মস্তিষ্ক নারীর চেয়ে সুদক্ষ, তার ধর্যশক্তি অপেক্ষাকৃত মযবুত এবং বুদ্ধিও পরিপূর্ণ। তদুপরি পুরুষের শরীর ও মাংসপেশীও সুদৃঢ়। এ সম্পর্কিত কিছু উক্তি পূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এখানেও কয়েক জন মনীষীর গবেষণা লক্ষ্য করুন: প্রখ্যাত সমাজবাদী দার্শনিক ডক্টর প্রোডন তাঁর ‘ইবতিকারুন-নিযাম' নামক পুস্তকে লিখেছেন:

“পুরুষের তুলনায় নারীর স্মৃতিশক্তিও ঠিক তেমনই দুর্বল, যেমন তার জ্ঞানবুদ্ধি পুরুষের জ্ঞানবুদ্ধির তুলনায় দুর্বল। নারীর ধৈর্য্য ও চারিত্রিক শক্তিও পুরুষের সমান নয়। তাদের স্বভাবই অনেকট ভিন্ন প্রকৃতির। তাই দেখা যায়, নারীর ভাল-মন্দ বিচার পুরুষের ভাল-মন্দ বিচারের সাথে সাধারণত অসামঞ্জ্যপূর্ণ। এতেই প্রমাণিত হয় যে, নারী ও পুরুষের পার্থক্যটা শুধু বাইরের দিক দিয়ে নয়, বরং এসব প্রকৃতিগত পার্থক্যেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।” (-মুসলমান আওরত)


এ উক্তি উদ্ধৃত করে ডক্টর ফরীদ ওয়াজদী লিখেন : “যে পঞ্চম ইন্দ্রিয়ের ওপর মানুষের বিদ্যা, বুদ্ধিগত ও মানসিক বিকাশ নির্ভরশীল, তাতেও বিরাট পার্থক্য পরিদৃষ্ট হয়। ডক্টর নিকোলাস ও ডক্টর বেইলী প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, নারীর পঞ্চ ইন্দ্রিয় পুরুষের পঞ্চ-ইন্দ্রিয়ের তুলনায় অত্যন্ত হীন, দুর্বল।"


অতঃপর সামনে অগ্রসর হয়ে ডঃ ওয়াজদী লিখেছেন : “মনোবিজ্ঞান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, নারী-পুরুষের মগষের আকৃতি ও প্রকৃতি উভয় ক্ষেত্রেই যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। গড়ে পুরুষের মগযের ওজন নারীর মগয়ে তুলনায় এক শ' ড্রাম অধিক।”


পুরুষ অপেক্ষা নারীর ক্ষুদ্র মগজ

বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এটাও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, নারীর মগ পুরুষের তুলনায় ক্ষুদ্র। বুদ্ধি-জ্ঞানের ওপর যার প্রভাব অনস্বীকার্য। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা গেছে যে, বোকা ও নির্বোধ লোকের মস্তিষ্ক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান লোকের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র। এ ক্ষেত্রে ডঃ ওয়াজদী লিখেনঃ মননশক্তির এ উৎসমূলের ক্ষেত্রেই নারীর তুলনায় পুরুষের পাল্লা বহুগুণ বেশি ভারী। সাধারণত পুরুষের মস্তিষ্ক বা মগষের গড়পড়তা ওযন প্রা ৪৯ আউন্স, আর নারীর মাযের মস্তিষ্ক বা ওযন মাত্র ৪৪ আউন্স।

দু'শ আটাত্তর জন পুরুষের মগ মেপে দেখা গেছে যে, সবচেয়ে বড় মগমের ওযন ৬৫ আউন্স এবং সবচেয়ে ছোট মগযটির ওযন ৩৪ আউন্স। অপরদিকে দু'শ একানব্বই জন নারীর মগষ মেপে দেখা গেছে যে, সবচেয়ে ভারী মগযটি ৫৪ আউন্স এবং সবচেয়ে হালকা মগযটির ওযন ৩১ আউন্স মাত্র। নারীর জ্ঞানশক্তি যে পুরুষের তুলনায় বহুগুণ দুর্বল-এই পার্থক্যই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।” উল্লেখ্য যে, এই পার্থক্য সর্বত্র বিদ্যমান। এক্ষেত্রে সভ্য-অসভ্যের কোনো ভেদাভেদ নেই।


কোনো কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি এই প্রশ্ন তুলে তর্ক শুরু করে দেন। তাই বিখ্যাত গ্রন্থ এনসাইক্লোপেডিয়ার বিজ্ঞ সম্পাদক প্রফেসর দ্য ফরিনি লিখেন: “নারী ও পুরুষের শারীরিক ও মানসিক ব্যবধান যেমন প্যারিসের ন্যায় সুসভ্য শহরে দেখা যায়, তদ্রূপ আমেরিকার বর্বরতম জাতিসমূহের মধ্যেও ঠিক সে পরিমাণেই পরিলক্ষিত হয়। " সামগ্রিকভাবে, আধুনিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, নারীর তুলনায় পুরুষের যোগ্যতা বেশি এবং যোগ্যতার প্রতি ক্ষেত্রেই নারী অপেক্ষা পুরুষ অগ্রবর্তী।


কর্তৃত্ব পুরুষের সত্ত্বেও উভয়ের অধিকার সমান 

স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে পুরুষের কর্তৃত্ব স্বীকৃত। এর অর্থ এ নয় যে, ইসলাম নারীকে পুরুষের দাসী বানিয়েছে। যারা এরূপ কদর্থ করতে সচেষ্ট, তারা অহেতুক হঠকারিতাবশই তা করে থাকে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে এ কথার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কি কোনো ব্যাপারে মতানৈক্য ঘটা অসম্ভব নয়। তা যদি না হয় তবে উভয়ের মধ্যে মত-পার্থক্য দেখা দিলে তার সমাধান কি ? ইসলামের দৃষ্টিতে তখন পুরুষের মতই প্রাধান্য পাবে এবং এমতাবস্থায় নারীর কর্তব্য হচ্ছে পুরুষের রায় মেনে নেয়া।

কেননা, পুরুষ তার বিশেষ যোগ্যতার বলেই পারস্পরিক ও গার্হস্থ্য জীবনের কর্মকর্তা। নতুবা ইসলাম উভয়ের পরামর্শ ও সমঝোতার ভিত্তিতেই সমস্ত কাজকর্ম আঞ্জাম দেয়ার পক্ষপাতী। এছাড়া নার-নারীর মধ্যে পূর্ণ সমতা বিদ্যমান। প্রত্যেকের ওপরই অপরের অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:


 ولهن مثل الذي عليهن بالمعروف وللرجال عليهن درجة

“নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের ওপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের ওপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে।” (-সূরা আল বাকারা : ২২৮)

উল্লেখিত আয়াতটি আকারে ক্ষুদ্র হলেও এর মধ্যে এক বিরাট মূলনীতি নিহিত। এক সাধারণ বিধান বিদ্যমান। তা হচ্ছে, নারী সব জিনিসেই পুরুষের সমান। সমগ্র মানবাধিকারেই পুরুষের সমতুল্য। তবে কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য নারীর চেয়ে পুরুষের কর্তৃত্ব আছে। যাকে sele Jai "নারীদের ওপর পুরুষদের কিছু মর্যাদা আছে” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


যাকে bangla pdf Jesus "পুরুষরা নারীদের কর্তা” -এর অধীনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই একটি মাত্র ক্ষেত্র ছাড়া নারী সমগ্র আচার-আচরণ আখলাক-চরিত্র ও ইবাদত-বন্দেগীতে পুরুষের সমান। এমন কোনো জিনিস নেই, যদ্বারা পুরুষকে বড় এবং নারীকে হেয় জ্ঞান করা যায়। একমাত্র ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদের এ সম্মান দিয়েছে।


জনৈক দার্শনিক ঠিকই বলেছেন, আল্লাহ রব্বুল আলামীন যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত জীবনের কর্তৃত্ব নারীর অধিকারে ফেলতে চাইতেন, তাহলে নারীকে পুরুষের মাথার অংশ থেকে সৃষ্টি করতেন, আর যদি নারীকে সেবিকার স্তরে রাখতে চাইতেন, তবে নারীকে পুরুষের পায়ের অংশ থেকে সৃষ্টি করতেন। আসলে এ দুটির কোনোটিই উদ্দেশ্য ছিলো না, বরং উদ্দেশ্য ছিলো তৃতীয় একটি উন্নত ও ভিন্নতর বিষয়। তা হচ্ছে, নারী ও পুরুষ উভয়ে সাম্যের জীবনযাপন করবে। বন্ধত্বের ব্যবহার চালু রাখবে। উভয়ে উভয়ের ইয্যত ও ভালবাসা অন্তরে পোষণ করবে। তাই রাব্বুল আলামীন নারীকে পুরুষের পার্শ্বদেশ থেকে সৃষ্টি করেছেন।


যদিও স্বামী কর্তৃত্বের অধিকারী তবুও স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে কাজ করবে

পুরুষকে কর্তৃত্বের অধিকারী বানানো সত্ত্বেও আল্লাহ পাকের নির্দেশ হলো, সাংসারিক যাবতীয় কর্ম স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে মিশে করবে এবং উভয়ের সম্মতি ও সন্তোষের মাধ্যমে তা আঞ্জাম দেবে। কুরআন যেখানে মাকে বলেছে সন্তানকে দু'বছর স্তন্য দান করতে এবং পিতাকে বলেছে স্তন্যদানকারিণীর ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করতে, সেখানে দুধপান বন্ধ রাখার বিষয়টিও উভয়ের পরামর্শ ও সম্মতিক্রমে ঠিক করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেঃ

فان ارادا فصالا عن تراض منهما وتشاور فلا جناح عليهما

“যদি তারা পরস্পরের সম্মতি ও পরামর্শক্রমে দুধপান বন্ধ রাখতে চায়, তবে তাদের কারো কোনো দোষ নেই।” (-সূরা আল বাকারা : ২৩৩)

এ থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলার অভিপ্রায় সমুদয় কর্ম যথাসম্ভব পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে নিষ্পন্ন হওয়া। অনন্তর মুমিনদের বৈশিষ্ট্যই বর্ণনা করা হয়েছেঃ আল্লাহ বলেন- وأمرهم شورى بينهم 

“তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে।" (-সূরা আশ শূরা : ৪)


এ সব আলোচনার সারমর্ম হলো, ইসলাম নরী-পুরুষের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের পর এমন এক বিধান সৃষ্টি করে দিয়েছে, যা অনুসরণ করলে উভয়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভালবাসা বজায় থাকবে এবং উভয়ের চারিত্রিক সততা ও যৌন পবিত্রতার ওপর কোনো রকম কলিমা লেপন করতে পারবে না।


স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন

এ যুগে প্রায়ই শোনা যায়, ধনী পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য কিছু ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়ে উভয়ে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। এই বিচ্ছেদভাব কখনো কখনো অনেক বছর পর্যন্ত গড়ায়। স্ত্রী যেমন তার জেদের ওপর অটল থাকে, স্বামীও তার মতের উপর অনড়। এই বিচ্ছেদকাল উভয়ের জন্যই বড় নাযুক সময়। কেননা, কাম প্রবৃত্তি থেকে কেউই মুক্ত নয়। ইসলাম এ ধরনের বিচ্ছিন্ন জীবনকে অভিশপ্ত ঘোষণা করেছে। ইসলামী শরীয়াতে এ ধরনের জীবন ব্যবস্থার মধ্যে এর কোনো অবকাশ নেই।

সতীস্বাধ্বী নারী ও তার কর্তব্য

স্বামী-স্ত্রী যদি ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চলতো, তাহলে এমন বিচ্ছিন্ন জীবন অবস্থারই সৃষ্টি হতো না। এরূপ ক্ষেত্রে পুরুষের কর্তৃত্বেই গোলযোগের এই ছিদ্রপথটি বন্ধ করে দিতো।

 اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوۡنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰهُ بَعۡضَهُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ وَّ بِمَاۤ اَنۡفَقُوۡا مِنۡ اَمۡوَالِهِمۡ ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلۡغَیۡبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰهُ ؕ وَ الّٰتِیۡ تَخَافُوۡنَ نُشُوۡزَهُنَّ فَعِظُوۡهُنَّ وَ اهۡجُرُوۡهُنَّ فِی الۡمَضَاجِعِ وَ اضۡرِبُوۡهُنَّ ۚ فَاِنۡ اَطَعۡنَکُمۡ فَلَا تَبۡغُوۡا عَلَیۡهِنَّ سَبِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَلِیًّا کَبِیۡرًا


পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযাত করেছেনে। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ কর এবং তাদেরকে (মৃদু) প্রহার কর। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমুন্নত মহান। এই ঘোষণার পরই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:


فالصلحت قنتي حفظت للغيب بما حفظ الله 

“সুতরাং সতীস্বাধ্বী স্ত্রীরা অনুগতা এবং যা লোক চক্ষুর অন্তরালে আল্লাহ্র হিফাযতে, তারা তার হিফাযত করে।" (-সূরা আন নিসা-৬)


উক্ত আয়াতে সতী নারীর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। নারীকে এভাবে পুরুষের আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, যাতে উভয়ের মধ্যে কখনো মতভেদ সৃষ্টি হলেও বিচ্ছিন্ন থাকার অবস্থা সৃষ্টি না হয়। দাম্পত্য জীবনের দৃঢ়তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-


انا إمراة سألت زوجها طلاقا في غيرها باس فحرام عليها رائحة الجنة

“যে নারী দুঃখ কষ্ট ব্যতীত স্বামীর নিকট তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের ঘ্রাণও হারাম।” (-মিশকাত)

উক্ত হাদীসে নারীদেরকে শিক্ষাদান করা হয়েছে যে, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে কখনো কোনো অনভিপ্রেত মতভেদের ঘটনা ঘটে গেলে এ সামান্য ব্যাপারেই স্বামীর কাছে তালাক প্রার্থনা শুরু করে দিব না। পারিবারিক জীবনে সাধারণত এরূপ ঘটনা ঘটেই থাকে। কেননা উভয়ের স্বভাব-প্রকৃতিতেই প্রাকৃতিক বিভিন্নতা বিদ্যমান থাকে।


দাম্পত্য জীবন সুখী করতে সতী নারীর কর্তব্য হচ্ছে, পারস্পরিক সংঘবদ্ধ জীবন পদ্ধতিতে যখনই অমিল অনুভূত হয়, তখনই স্বামীর কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করা। আবেগ ও জেদ পরিহার করে যুক্তির পথ অনুসরণ করা। যৌথ ও পারিবারিক জীবনে স্বামীর কর্তৃত্বের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার আনুগত্য মেনে নেয়া। স্বীয় কর্তার বাড়াবাড়ির আশঙ্কা হলে আইনের গন্ডীর মধ্যে থেকে তার বাড়াবাড়ি তার কাছে তুলে ধরবে। ন্যায়বিচার ও সাবধানতার দাবীকে ভদ্রভাবে তার কাছে পেশ করতে হবে।


আল্লাহ্ না করুন, নারী যদি জেদ ধরে আইনকে নিজ হাতে তুলে নেয়, তবে নিঃসন্দেহে দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি চিরদিনের জন্য তিরোহিত হবে। প্রতি কাজে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা অনিবার্য হয়ে পড়বে। স্বামী-স্ত্রী যে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের কর্তা, তা ধ্বংস ও বিনষ্ট হয়ে যাবে। তার অবশ্যম্ভাবী ফলশ্রুতি স্বরূপ দুনিয়াবাসীর কাছে তারা হেয় প্রতিপন্ন হবে। গোটা জাতি জেনে ফেলবে স্বামী-স্ত্রী কারো মধ্যেই পারিবারিক রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা নেই। এরপর কেউ-ই সহসা তাদেরকে এই রাষ্ট্রের সদস্য পদ দানে সম্মত হবে না।


স্বামীর সন্তুষ্টি

পুরুষের ভালবাসা ও কর্তৃত্বের কারণে নারীর ওপর তার স্বামীকে সন্তুষ্ট ও ভক্তি-শ্রদ্ধা করা অত্যাবশ্যক। নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

لوكنت أمر أحدا أن يسجدا لأحد لأمرت المراة أن تسجد لزوجها

“যদি আমি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার।" (-তিরমিযী,) অনুচ্ছেদ : নারীর সাথে ব্যবহার স্ত্রীর ওপর তার স্বামীর সমীহ-সম্ভ্রম ও সন্তোষ বিধান করা অপরিহার্য-হাদীসের অর্থ এ ছাড়া আর কি হতে পারে, যে স্বামী নিজকে স্ত্রীর প্রতি ভালবাসায় উৎসর্গ করে দিয়েছে, স্ত্রীর সুখের জন্য স্বীয় ধন-সম্পদ উজাড় করে দিয়েছে, তাকে শ্রদ্ধা-সম্মান ও তুষ্ট করা স্ত্রীর কর্তব্য নয় কি ?

শুধুমাত্র লোক-দেখানো ভক্তি-শ্রদ্ধা নয়, বরং আন্তরিকতাও একান্ত আবশ্যক, যাতে স্বামীর মনে দাগ কাটার দরুন স্ত্রীর ওপর সন্তুষ্ট হয়। স্বামীর সন্তোষ বিধান করা স্ত্রীর পক্ষে দুনিয়ার জন্যও আবশ্যক এবং পরকালের জন্যও। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:


ايما إمرأة ماتت وزوجها عنها راض دخلت الجنة

“যে স্ত্রী তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (-তিরমিযী)

স্বামীর আনুগত্য

নারী তার আনুগত্য ও ফরমাবরদারী দ্বারাই স্বামীর ভালবাসা ও সন্তুষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ স্ত্রী যখন তার স্বামীর প্রতিটি বৈধ নির্দেশ মেনে চলবে, তখন স্বামী তার ওপর স্বীয় মন-প্রাণ উজাড় করে দেবে। একজন ভদ্রলোকের পক্ষে যতটুকু আদর-ভালবাসা সম্ভব, তার সবটুকুই সে করবে। বস্তুত স্বামীর বৈধ আনুগত্যই নারীর ভূষণ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ঘোষণা:

المراة إذا صلت خمسها وصامت شهرها واحصنت فرجها واطاعت بعلها فلتدخل من أي أبواب الجنة شاءت

“নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমযান মাসের রোজা পালন করে, স্বীয় যৌনাঙ্গ হিফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তবে সে জান্নাতের যে দরযা দিয়ে চাইবে, প্রবেশ করতে পারবে।”-(মিশকাত)


নামায-রোয়া ও ইযযত-আবরু রক্ষার সাথে সাথে স্বামীর আনুগত্য করাও আবশ্যক বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ হাদীসে ইঙ্গিত করা হয়েছে, নারীর যেমন আল্লাহর হক আদায় করা জরুরী, তেমনি স্বামীর হক আদায় করাও তার কর্তব্য। স্বামীর হক নষ্ট করে নারী কখনো সফলকাম হতে পারে না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো, “ভালো স্ত্রী কে ?” তিনি উত্তরে বললেনঃ


التي نشره إذا نظر وتطيعه إذا أمر ولا تخالف في نفسها ولا مالها بمايكره

“যে স্ত্রীর দিকে স্বামী তাকালে তার মন খুশী হয়, যে স্ত্রীকে কোনো বৈধ আদেশ দিলে তা পালন করে, যে স্ত্রী তার জান ও মাল দ্বারা স্বামীর অপছন্দনীয় কোনো কাজ করে না সে-ই আদর্শ স্ত্রী।"(- মিশকাত)

স্বামীর আনুগত্য করার তাকীদ এর চেয়ে মনোহর ভঙ্গিতে আর কি হতে পারে ? বস্তুত যে নারীর মধ্যে উপরোক্ত গুণাবলি অনুপস্থিত, তাকে নিশ্চিতভাবেই জেনে রাখতে হবে যে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট সে ভালো স্ত্রী নয়। আর যা-ই হোক, যে স্ত্রী আল্লাহর রাসূলের দৃষ্টিতে ভালো নয়, সেতো বড়ই হতভাগা।


শরীয়ত বিরোধী নির্দেশ মানা যাবে না

এটা স্বীকৃত সত্য যে, স্বামীর বৈধ আনুগত্যের বাইরে যাওয়া যাবে না। অর্থাৎ স্বামীর যে সব কথা ও নির্দেশ আল্লাহর শরীয়ত বিরোধী, স্ত্রী তা মানবে না। হাদীসে একটি ঘটনা উল্লেখ আছে। এক আনসারী মহিলা একবার নবী (সাঃ)-এর দরবারে হাজির হয়ে বললেন : আমি আমার কন্যাকে বিবাহ দিয়েছি। ঘটনাক্রমে কন্যার মাথার চুল উঠে গেছে। এখন স্বামী চাচ্ছেন তার মাথায় কৃত্রিম চুল লাগাতে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : “যে নারী স্বীয় মাথায় কৃত্রিম চুল লাগাবে, তার ওপর আল্লাহ লানত। (-বুখারী)

অনুগত স্ত্রী মূল্যবান নিয়ামত

স্বামীর যেসব নির্দেশ শরীয়ত সম্মত স্ত্রী তা অবশ্যই মেনে চলবে। অনুগত স্ত্রীকে হাদীসে বড় মূল্যবান নিয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছে। অনুগত স্ত্রীকে ইসলাক কি সম্মান ও মর্যাদা দান করেছে, এই হাদীসটি পাঠ করে তা অনুমিত হয়


ما استفاد المؤمن بعد تقوى الله خيرا له من زوجة صالحة أن أمرها أطاعته وإن نظر إليها مرته وإن أقسم عليها ابرته وإن غاب عنها نصحته في نفسها وماله

“তাকওয়ার বা আল্লাহভীতির পর মুসলমানদের জন্য যে উত্তম জিনিসটি গ্রহণযোগ্য, তা হচ্ছে সতী নারী। (আর সতী নারীর বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে।) সে স্বামীর নির্দেশ মেনে চলে, তার দিকে তাকালে স্বামীর অন্তর জুড়িয়ে যায়, তাকে ওয়াদা দিলে তা পূর্ণ করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্বীয় জান ও স্বামীর ধন-সম্পদ হিফাযত করে।" (-ইবনে মাজা)

উক্ত হাদীস থেকে জানা গেলো, মুমিনের আল্লাহ তাআলার ভয়-ভীতির পর উৎকৃষ্ট সম্পদ হচ্ছে সতী ও অনুগত স্ত্রী, যে তার প্রিয় স্বামীর মন জয় করে। তাঁর প্রতিটি আদেশ পালন করে এবং (স্বামীর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিতে) যৌন পবিত্রতা রক্ষা করে।


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন : স্বামী যদি তার স্ত্রীকে এক পাহাড়ে থেকে অন্য পাহাড়ে, সেখান থেকে আরেক পাহাড়ে যাওয়ার আদেশ দেন, তবে সতী স্ত্রী তা-ই করবে।” (-ইবনে মাজা)

ইসলামী শরীয়ত স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্পর্ককে অধিকতর মযবুত করতে চায় । তাই এক্ষেত্রে উভয়ের মনস্তত্ত্বের প্রতি দৃষ্টি রেখে স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেককে তার উপযুক্ত অধিকার দান করেছে। স্ত্রীর ওপর স্বামীর যেসব অধিকার রয়েছে, তার সবগুলোই স্ত্রী মনে-প্রাণে আদায় করতে সক্ষম।


একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘স্বামীর বৈধ আদেশ পালন করা স্ত্রীর জন্য অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, স্ত্রী যে পর্যন্ত স্বীয় স্বামীর বৈধ অধিকারসমূহ আদায় না করবে, সে পর্যন্ত ঈমানের মিষ্টি স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না। (-মিফতাহুল খিতাবাহ)


পূর্বের হাদীসে বলা হয়েছে, স্বামী তাঁর গোটা পরিবারের অধিকর্তা। পরিবারে স্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত আছে। সুতরাং অধিকর্তার বৈধ আদেশ অমান্য করা কি করে বৈধ হতে পারে? বৈধ সব নির্দেশ নারীর আনন্দ সহকারে পালন করা উচিত। কেননা, নারী তার স্বামীর অর্ধাংগিনী, জীবনসঙ্গিনী ও সুখ-দুঃখের অংশীদার। তাই এক জীবন সঙ্গীর কর্তব্য হচ্ছে অন্য জীবন সঙ্গীর জন্য প্রাণপাত করা। নারী যা-ই করবে জীবনসঙ্গিনী হিসাবে করবে নিজকে দাসী-বান্দী ও অধীনস্থা মনে করবে না।


স্বামীর যৌন আহ্বানে সাড়াদান

যৌন চাহিদা বাহ্যত পার্থিব ব্যাপার। কিন্তু এক্ষেত্রেও স্বামী তার স্ত্রীকে আহ্বান করলে স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রণয়ের দাবী হচ্ছে, স্বামীর আদেশ মান্য করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :

إذا الرجل دعا زوجته لحـاجـتـه خلت له وإن كانت على التثور .

“যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের প্রয়োজনে ডাকে, তখন সে যেনো স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়— যদিও সে রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে। (-মিশকাত, তিরমিযী)

নিন্মের হাদীসে পরিষ্কার উল্লেখ আছে, যদি এক্ষেত্রেও সাড়া প্রদান না করে, তবে গুনাগার হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:


إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه ثابت ان تجلى لعنتها الملائكة حتى تصبح

“কোনো ব্যক্তি যদি স্বীয় স্ত্রীকে তার সাথে এক বিছানায় শয়ন করার জন্য ডাকে, অর্থাৎ সহবাসের জন্য, আর স্ত্রী তা অস্বীকার করে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতা তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।” (-বুখারী), অনুচ্ছেদঃ যদি কোনো স্ত্রীলোক তার স্বামীর বিছানা বাদ দিয়ে আলাদা বিছানায় রাত যাপন করে।

একদিন তিনি শপথ করে বলেন, “স্বামীর তার শয্যায় আসতে স্ত্রীকে আহ্বান জানালো আর স্ত্রী যদি স্বামীর সে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, তবে স্বামী স্ত্রীর ওপর সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ রব্বুল ইযযত ও ফেরেশতাগণ তার ওপর নারাজ থাকেন। (- মুসলিম)


উক্ত হাদীস থেকে জানা গেলো, মুমিনের আল্লাহ তাআলার ভয়-ভীতির পর উৎকৃষ্ট সম্পদ হচ্ছে সতী ও অনুগত স্ত্রী, যে তার প্রিয় স্বামীর মন জয় করে। তাঁর প্রতিটি আদেশ পালন করে এবং (স্বামীর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিতে) যৌন পবিত্রতা রক্ষা করে।



duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, duties of wife, 

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !